Saturday, 22 August 2026

শাসকের ক্ষমতা বনাম সাধকের শক্তি | আনুশেহ আনাদিল | সুফিবাদ



কারবালার পর ক্ষমতা যখন ধর্মের ওপর দখল নিল, ইসলাম কিন্তু হারিয়ে যায়নি। রাজদরবার ছেড়ে চলে গিয়েছিল খলিফাদের প্রাসাদ, শাসকের গৌরব বাড়ানোর জন্য নির্মিত মার্বেলের মসজিদ, ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়া পোষা আলেমদের জগৎ থেকে দূরে।

ইসলাম টিকে ছিল নীরবে– মরুভূমি পেরিয়ে, নদীর তীরে, বন-গ্রামে, সাধারণ মানুষের জীবনের ভেতরে। সাম্রাজ্য হিসেবে নয়, উপস্থিতি হিসেবে। কারবালা ছিল সভ্যতাগত ভাঙন। যখন ইয়াজিদ জুলুমের প্রতি আনুগত্য দাবি করল আর ইমাম হুসাইন (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন ইসলাম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিল। ইমাম হুসাইনের (রা.) শাহাদাত শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়। এ ছিল সেই মুহূর্ত, যখন বিবেককে ক্ষমতার নামে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল।

বাংলায় ইসলাম এসেছিল আউলিয়াদের মাধ্যমে। লোকজ ও আত্মিক স্মৃতিতে আছে, শতাব্দী ধরে প্রায় ৩৬০ জন আউলিয়া বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন– সাধক, দরবেশ, চিকিৎসক, পথপ্রদর্শক। তারা ইসলামের বাণী বহন করেছিলেন শুধু আইনের আকারে নয়; জীবিত নৈতিকতা হিসেবে। তারা এ দেশের ভাষায় কথা বলেছেন। কৃষক, জেলে, তাঁতি আর দরিদ্র মানুষের পাশে বসেছেন। স্থানীয় সংস্কৃতি মুছে দেননি; রূপান্তরিত করেছেন। এই সুফিরা ভয় প্রচার করেননি; তারা ছড়িয়েছিলেন অভয় ও আধ্যাত্মিকতা।

মানুষ সত্যকে চিনেছিল যুক্তির জোরে নয়, অনুভবের গভীরতায়। সত্য হুমকি হয়ে আসেনি; সে এসেছে স্বস্তি হয়ে। আধুনিক ধর্মীয় কাঠামো এ বিষয়টি ভুলে যায়–সত্যের চিৎকার দরকার হয় না, তার নিজেরই টান থাকে। আউলিয়ারা বহন করেছিলেন সেই মহান বাণী, যা সাম্রাজ্য হারিয়ে ফেলেছিল; কিন্তু মানুষের মধ্যে জীবিত ছিল। তাদের কর্তৃত্ব কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আসেনি; এসেছে অস্তিত্ব থেকে। তারা দেহ সারিয়েছেন, হৃদয় নরম করেছেন, নিষ্ঠুরতা ভেঙেছেন, স্লোগান ছাড়াই অন্যায়কে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেননি। এ কারণেই বাংলার ইসলাম বহুমাত্রিক, কাব্যিক, সুরেলা এবং গভীরভাবে মানবিক হয়ে উঠেছে।

আধুনিক যুগে ভয়নির্ভর, আক্ষরিক ব্যাখ্যাভিত্তিক এক ধারা, যা মূলত ওহাবি মতবাদ প্রভাবিত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল অর্থ, রাজনৈতিক জোট এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির জোরে এ ব্যাখ্যাকে একমাত্র ‘খাঁটি’ ইসলাম বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আউলিয়াদের দরগাহ, যেখানে প্রার্থনা, সংগীত, দান, স্মরণ চলে, সেই স্থানগুলো বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। এগুলো ক্ষমতার কেন্দ্র নয়। এগুলো সাধারণ মানুষের আশ্রয়, যেখানে মানুষ আরোগ্য, সান্ত্বনা আর আল্লাহর সঙ্গে নৈকট্য খুঁজে পায় ভালোবাসার মাধ্যমে। তবু এগুলোই নিশানা। কারণ এগুলো প্রতিনিধিত্ব করে বাতিনি ইসলাম-অন্তর্গত পথ।
ভয়নির্ভর মতাদর্শের কাছে দরগাহ বিপজ্জনক। কারণ এগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এখানে নারী আসে, দরিদ্র আসে, ভাঙা মানুষ আসে, প্রশ্নও আসে। এখানে কবিতা আছে, যেখানে কঠোরতা নীরবতা চায়। এখানে ভালোবাসা আছে, যেখানে ভয় আনুগত্য চায়।

দরগাহে আঘাত মানে শুধু ধর্মতাত্ত্বিক বিরোধ নয়। এর মানে স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা। কিন্তু স্মৃতি মুছে যায় না। প্রতিটি আক্রমণ এক গভীর সত্য প্রকাশ করে। প্রকৃত সংঘাত ইসলাম আর অন্য কিছুর মধ্যে নয়; সংঘাত ইসলামের ভেতরেই। অন্তর্গত রূপান্তরের ঐতিহ্য বনাম বাহ্যিক আধিপত্যের মানসিকতা।
ওহাবি মতবাদে মিরাজের মতো গভীর ঘটনার আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী তাৎপর্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যা ছিল চেতনার মানচিত্র, তাকে বানানো হয়েছে কঠোর শারীরিক ঘটনা। মিরাজ কখনোই শুধু দেহের উড্ডয়ন ছিল না। এ ছিল আত্মার যাত্রা।

অহংকার, ভয় আর সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে যাত্রা। সুফিরা মিরাজকে দেখেছেন একটি আদর্শ হিসেবে। পরিশুদ্ধি, নৈতিক দায়িত্ব ও জাগরণের ডাক হিসেবে। যখন প্রতীক মুছে ফেলা হয়, ধর্ম যন্ত্রে পরিণত হয়। যখন গভীরতা অস্বীকার করা হয়, শূন্যতা ভরাট করে ভয়। বাতিন ছাড়া ইসলাম আচরণের নজরদারিতে পরিণত হয়; সত্তার রূপান্তরে নয়।
এ কারণেই আজ বহু মানুষ দমবন্ধ করা বিশ্বাসে আটকে আছে। আল্লাহ দূরের হয়ে যান। ভালোবাসা হারিয়ে যায়। প্রশ্নকে হুমকি মনে করা হয়। তবু সত্য হারিয়ে যায়নি। সে লুকিয়ে আছে। সব সময়ই কিছু মানুষ থাকে যারা বাহ্যিকতার আড়ালে দেখতে পায়। তারা অসংগতি টের পায়। তারা প্রশ্ন তোলে ধ্বংসের জন্য নয়; ইসলামকে বাঁচানোর জন্য।

যারা প্রশ্ন তোলে, তাদের প্রায়ই ভুল বোঝা হয়। প্রান্তিক করা হয়, নীরব করিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তারা পৌঁছে যায় সুফি ধারায়; সেই শিক্ষকদের কাছে, যারা ভয়ের চেয়ে দায়িত্বের কথা বলেন; আধিপত্যের চেয়ে হৃদয়ের পরিশুদ্ধির কথা বলেন। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে– যখন মিথ্যা নিশ্চিততা চেঁচামেচি করে, সত্য বোঝাপড়া নীরব হয়ে যায়। যখন ক্ষমতা উপরিভাগ দখল করে, জ্ঞান ভেতরে সরে যায়।
আউলিয়ারা এটা জানতেন। তাই তারা দর্শন লুকিয়েছেন কবিতায়, ধর্মতত্ত্ব গেয়েছেন গানে আর যুক্তির বদলে উপস্থিতির ওপর ভরসা রেখেছেন। ভাষা বন্দি হলে সত্য আশ্রয় নেয় অস্তিত্বে। আজ আমরা অভূতপূর্ব বিকৃতির যুগে বাস করছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভ্রান্তি, অ্যালগরিদমের উত্তেজনা, আদর্শিক শব্দদূষণে সত্য চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ভয়নির্ভর কাঠামো নিজের ভেতরেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারা টিকে থাকে দমন, নীরবতা আর আনুগত্যে। তারা প্রশ্ন, নৈতিক স্পষ্টতা আর অন্তর্জাগরণ সহ্য করতে পারে না। তারা শক্তিশালী দেখায়, কিন্তু গভীর নয়। সত্য লুকিয়ে থাকলেও টিকে থাকে এবং এই সময়ের বার্তা একটাই– বিশেষ করে এই সময়ে ভয় পাস না। তুই যদি সুবিধা, নিরাপত্তা বা স্বীকৃতির পথে না হেঁটে সত্যের পথে হাঁটিস, তাহলে তুই জিতবি। ক্ষমতা বা খ্যাতি দিয়ে নয়, কিন্তু অখণ্ড সততা নিয়ে।

বাতিন চিরকাল আড়ালে থাকতে পারে না। শব্দের নিচে চাপা পড়া সত্য একদিন স্পষ্টতায় ভেসে ওঠেই। যুগে যুগে ইসলাম ক্ষমতার কাছে গিয়ে প্রকৃত সত্তা হারিয়েছে, কিন্তু সংরক্ষিত হয়েছে প্রেমিকদের হাতে। শাসকরা তাকে বিকৃত করেছে কিন্তু সাধকরা আগলে রেখেছে। ভয়ের দ্বারা অস্ত্র বানানো হয়েছে কিন্তু দয়ার মাধ্যমে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দরগাহ ভাঙতে পারে। কণ্ঠ রোধ করা যেতে পারে। অন্তর্গত ইসলাম, জীবিত ইসলাম ধ্বংস করা যায় না। কারণ যা সত্যে প্রোথিত সে পথ খুঁজে নেয় আবার আলোয় ফিরে আসার।

লেখক: আনুশেহ আনাদিল।।
সংগীতশিল্পী ও সমাজকর্মী।।

Holy Prophet's Day - 29 August - Sufism





সকল দিবসের সেরা দিবস

২৯ আগষ্ট নবী দিবস | PROPHET’S DAY | ইয়াউমুন্নবী ( ﷺ )
বছর, মাস ও দিনের সময় নির্ধারণের সকল প্রক্রিয়া চন্দ্র ও সূর্যের আবর্তন কেন্দ্রীক- এ তত্ত্বটি ঐতিহাসিক সত্য। এ বিষয়ে আল কোরআনে এরশাদ হচ্ছে:
“তারা আপনার নিকট নতুন চাঁদ সম্পর্কে জানতে চায়, আপনি বলুন, এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ ও হজ্জের সময় জানার মাধ্যম” (সূরা বাক্বারা, আয়াত খন্ড ১৮৯)।
উক্ত আয়াতে কারিমা দ্বারা প্রমাণিত হয়, চাঁদ সৃষ্টির একটি বিশেস কারণ হলো সময় নির্ধারণ। অন্য আয়াতে কারিমায় সময় জানার ক্ষেত্রে সূর্যের অবদান উল্লেখ করতে গিয়ে এরশাদ হচ্ছে:
আমি (আল্লাহ্) রাত ও দিনকে দু’টি নিদর্শন করেছি। রাতের নিদর্শনকে নিষ্প্রভ করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি দেখার উপযোগী। যেন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো এবং বছরের সংখ্যা ও গণনা সম্পর্কে জানতে পারো। আমি প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করি (সূরা বনী ইসরাইল আয়াত- ১২)।
কিন্তু কালের চক্রে প্রক্রিয়াদ্বয়ে সঠিক সময় নির্ধারণে মতানৈক্যের কোন শেষ নেই। তাই নির্ভরযোগ্য মতামতের আলোকে নিম্নে সৌর বর্ষের হিসাবে নবী দিবস উদ্যাপনের তাত্ত্বিক বিশ্লেষনের প্রয়াস পাচ্ছি।
স্কটল্যান্ডে ১০ হাজার বছরের পুরোনো ল্যুনার (চন্দ্র) ক্যালেন্ডার আবিষ্কারের সংবাদ বিবিসি ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই প্রচার করলে ব্রিমিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিন্স গ্যাফনি বলেন, পূর্বে আবিষ্কৃত ক্যালেন্ডার হতে এটি প্রায় ৫ হাজার বছরেরও অধিক পুরোনো। সৌর বার্ষিক ক্যালেন্ডারের মধ্যে গ্রীক, রোমান ও জুলিয়ান হয়ে ১৫৮২ সাল হতে বর্তমানে ব্যবহৃত আধুনিক পঞ্জিকার নাম গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার।নবী মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা(দ.)’র আগমন কালে প্রচলিত ক্যালেন্ডার ছিল জুলিয়ান।
এখানে উল্লেখিত আলে-ইমরানের ৮১-৮২ নং আয়াতের আলোকে, রোজ-এ আজল্ অর্থাৎ যেদিন স্বয়ং আল্লাহ্ সকল নবীগণ (আ.) হতে মোহাম্মদ (দ.)’র আগমনের প্রতি বিশ্বাস ও সহযোগীতার অঙ্গীকার নিলেন সে সম্মেলনই ছিল সৃষ্টি জগতে মোহাম্মদ (দ.)’র আগমন উপলক্ষ্যে উদ্যাপিত সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিক দিন। ঐ আগমনী সংবাদ শুনিয়েছেন স্বয়ং স্রষ্টা আর শ্রোতা ছিলেন সকল নবীগণ (আ.)। কিয়াম অর্থাৎ দাঁড়ানো অবস্থায় সেদিন অংশ গ্রহণ করেছিলেন নবীগণ (আঃ) কেননা আদবের মোকাম আল্লাহর দরবারে বসার নিয়ম নেই।
প্রিয় নবী নবী মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা (দ.)পৃথিবীতে আগমনের তাৎপর্যে আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা এরশাদ করেন:
অর্থাৎ আমি আপনার স্মরণকে আপনারই জন্য সমুন্নত করেছি।
আল্লাহ্ আরও ইরশাদ করেন:
অর্থাৎ (হে নবী) আপনি বলুন, আল্লাহরই অনুগ্রহ, তারই দয়ার কারণে তাদের আনন্দ প্রকাশ করা কর্তব্য। তা তারা যা সঞ্চয় করে তা অপেক্ষা উত্তম। সূরা ইউনুসের এ ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় অধিকাংশ তফসীরকারকগণ আয়াতে উদৃত ফাদল ও রহমত শব্দদ্বয় দ্বারা নবী নবী মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা (দ.)’র পবিত্র সত্ত্বা তথা অজুদে মোকদ্দেছকে বুঝিয়েছেন। তার সাথে প্রেমময় সম্পর্কের গুরুত্ব প্রকাশ করে আল্লাহ্ বলেন:
হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, ‘হে মানবজাতী, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসারী হয়ে যাও, ফলতঃ আল্লাহ্ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহ্ ক্ষমা করবেন’ (সূরা আলে ইমরান-৩১)।
অনুরূপভাবে, হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছে:
হযরত আনান ইবনে মালেন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট স্বীয় পিতা, আপন সন্তান ও সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় হব (সহীহ বোখারী)।
প্রকৃত মো’মেনগণ আল্লাহ্ ও রাসুল (দ.)’র সাথে সম্পৃক্ত হন বাসনা শূণ্য প্রেমময় সম্পর্কে। এ অবস্থাকে বলা হয়, রাজিয়াতুম্ মর্জিয়াহ।
অপর দিকে নবী (দ.) পৃথিবীতে শুভাগমন সম্পর্কে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (দ.) সোমবারে আবির্ভূত হন, সোমবারে তাঁর নিকট নব্যুয়ত প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সোমবারে মক্কা থেকে মদিনার দিকে মুহাজির বেশে বের হয়েছিলেন, সোমবারে মদিনায় পৌছেন, সোমবারে তাঁর তিরোধান ঘটেছিল, সোমবারে হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেছিলেন (মসনদে আহমদ ইবনে হাম্বল)। এরূপ আরও অনেক হাদিসের ভিত্তিতে হাদিস বিশারদগণ এক মত যে, রাসুল (দ.) সোমবার ধরাধামে আগমন করেন।
ইসলাম পূর্ব আরবাঞ্চলে চাঁদের আপেক্ষিকতায় দিন গণনা করা হতো। আল বেরুনী ও আল মাসৌদীর গবেষণায় জানা যায়, তখনও মক্কা অধ্যুষিত অঞ্চলে বর্তমান ইসলামী মাসের অনুরূপ নাম এবং যুদ্ধের প্রশ্নে হালাল ও হারাম এ দুই প্রকারভেদ ছিল কিন্তু ভিন্ন মত পোষণকারী তৎকালীন তিহামা, হিজাজ ও নজদের বাসিন্দারা প্রায় প্রতি বছর তাদের সুবিধা মত এ সমস্ত মাসকে আগে পরে সাজিয়ে নিতো। পরবর্তীতে প্রমাণিত, সৌর প্রভাব নির্ভর পৃথিবীর ঋতুচক্রে চান্দ্রবার্ষিক প্রায় ১১ দিনের পার্থক্যের কারণে হজ্জ্ব ও ব্যবসা মৌসুম সুবিন্যাস করতে ক্ষেত্র বিশেষে তৃতীয় বৎসরে একটি অনির্ধারিত মাস অনুপ্রবেশ করাতেন। যা কোন বছর করা হয়েছে বা হয়নি তা নির্ধারণ করা ইসলাম পরবর্তী যুগে অসম্ভব হয়ে যায়। তখন ধর্তব্য বছরের উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনার ভিত্তিতে বছরটির নামকরণ করে হিসাব রাখা হত। যেমন হস্তি সন।
মুসলিম সমাজের স্বতন্ত্র দিনপঞ্জিকা নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেয় দ্বিতীয় খলিফা ওমরের (রা.) শাসনামলে। ৬৩৮ ইংরেজী নানাবিধ প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও মক্কা হতে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে স্মরণীয় করতে নবী (দ.)’র তিরোধানের সাত বছর পর ১৭ হিজরীতে এ হিজরী সালের সূচনা হয় যাতে পূর্ববর্তী ১৭ বছরও হিসাবভূক্ত রয়েছে।
চান্দ্রবার্ষিক এ হিজরী সনের গণনার প্রথম দিনটি সাহাবী হযরত ওসমান বিন আফ্ফানের (রঃ) প্রস্তাবনায় নির্ধারিত হয় পহেলা মুর্হরম। ফলত; মুহরম ০১, হিজরী ০১ তারিখটি ছিল শুক্রবার জুলাই ১৬, ৬২২ ইংরেজী।
তিরোধানের ১২০-১৩০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে নবী (দ.)র পূর্ণাঙ্গ জীবনী সংগ্রহের প্রথম উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইবনে ইসহাকের (জন্ম: ৮৫ হিঃ মদীনা- মৃত্যু: ১৫১ হিঃ বাগদাদ) সাথে বিজ্ঞ সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিকের (রা.) যোগাযোগ ছিল বলে তাকে তাবেয়ীগণের অন্তর্ভূক্ত বলা হয়। পরবর্তীতে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে জীবনী লেখক ইবনে হিসাম ও আবু জারীর আল্ তাবায়ী রাসুল (দ.)’র এ ধরায় আবির্ভাব ও তিরোধান দিবসের বিষয়ে এক মত পোষণ করে দিনটি ১২ই রবিউল আউয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, সমকালীন অভিজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সীরাত-এ রাসুল (দ.) রচিত হয়। ঐতিহাসিক মতে ইয়েমেনের শাসক আব্রাহা হাতি সহ সুসজ্জিত সৈন্য দিয়ে ক্বাবা ধ্বংস করতে আসা এবং ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা পাখির (আবাবিল) প্রতিরোধে ব্যর্থ ও নিহত হওয়ার ঘটনা, যা কোরআনও সাক্ষ্য দেয়া (সূরা ফীল) তার ভিত্তিতে ঐ বছরের নাম রাখা হয় হস্তি সন। মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ গবেষকের মতে, হস্তি সালেন উক্ত ঘটনার ৫৫ দিন পর মা আমেনার ঘটে ভুমিষ্ঠ হন নবী (দ.)।
পরবর্তী লেখকগণের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও মূলত প্রাথমিক যুগের মৌলিক জীবনী লেখকগণ এক মত যে, বছরটি হস্তি সাল ও দিনটি রবিউল আউয়াল চান্দ্রমাসের ১২ তম দিন ছিল। তারিখটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্য হলেও আহলে হাদীসগণ দিনটি ৯ রবিউল আউয়াল এবং শিয়াগণ ১৭ রবিউল আউয়াল মনে করেন।
লক্ষ্যণীয় হল, মোহাম্মদ (সঃ)’র জন্ম দিন উপলক্ষ্যে সোমবার রোজা পালনের যে ধারা স্বয়ং নবী (দ.) ও তার সাহাবীগণ (রা.) সূচনা করেছিলেন তা হিজরী চতুর্থ শতকে মুসলিম মিশরাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের পরিবর্ধিত রূপ নেয়। সপ্তম শতকে ইরাকের ইরবিল প্রদেশের শাসক আবু সাঈদ কোকোবূরীর উদ্যোগে তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আন্তর্জাতিক পবিত্র উৎসবের মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এ কথা স্বীকার্য যে, রাসুল (দ.)র আবির্ভাবের ঐ দিনটি কোনভাবেই এখন সুনির্দিষ্ট প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ণয় করা সম্ভব হয়। কতেকের মতে সনটি ৫৭১ইং বা দিনটি ২০ এপ্রিল হলেও অগ্রজ জীবনী লেখকগণের মতামতের আলোকে ১২ই রবিউল আউয়াল মোতাবেক অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও জ্যোতির্বিদ একমত হয়েছেন যে, গ্রেগারিয়ানের হিসাবে এ তারিখটি হবে আগষ্ট ২৯, ৫৭০ ইংরেজী।
আধুনিক যুগের যে সকল সর্বজন শ্রদ্ধেয় লেখক-গবেষকগণ নবী (দ.)র আবির্ভাব দিবসটি স্বীয় গ্রন্থে আগষ্ট ২৯, ৫৭০ ইংরেজী বলে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামিক অনলবর্ষী বক্তা প্রয়াত আহমদ দীদাতের গ্রন্থ “মোহাম্মদ দ্যা ন্যাচারাল সাকসেসর অব ক্রিষ্ট” এবং স্যার ছৈয়দ আমির আলীর দ্যা স্প্রিট অব ইসলাম” বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
‘নবী দিবস উদ্যাপন পরিষদ ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম হতে প্রকাশ-প্রচারিত এক লিফলেটে জানায়, রাহে ভান্ডার সিলসিলার বর্তমান সাজ্জাদানশীন আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক (মা.) আগষ্ট ২৯, ২০১৩ তারিখে বিশ্বে প্রথম বারের মত নানাবিধ আন্তর্জাতিক দিবসের ন্যায় রাসুল (দ.)র সৌর বার্ষিকী আবির্ভাব দিবস পালনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। অবিচ্ছেদ্য রূপে মিলাদ অর্থাৎ জন্ম শব্দ সমেত আরবী, বাংলা ও উর্দূতে দেশ-বিদেশ হতে বহু নাম উত্থাপিত হলেও তিনি মূল আরবী রূপ ইয়্যাউমুন্ নবী এর আলোকে স্বীয় মাতৃভাষায় নাম প্রস্তাব করেন নবী দিবন। তিনি বলেন, কোরআনে নবী (দ.)র দুনিয়ায় আবির্ভাব হওয়ার বিষয়টিকে আরসালাঃ বা আছা যা আ” অর্থাৎ যথাক্রমে তিনি (আল্লাহ্) প্রেরণ করেছেন, তিনি (আল্লাহ্) পাঠিয়েছেন ও তিনি {মোহাম্মদ (দ.)} আগমন করেছেন”, এরূপ শব্দ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি আজ কেবল মাত্র বাংলাদেশে হলেও যে কোন দেশের- ভাষার মানুষ এর নাম অনুবাদ করে সে মতে উদ্যাপন করতে পারবেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারা (উপস্থিত সাহাবাগণ) আরজ করলেন, আপনার জন্য কখন নবুয়্যত অবধারিত হয়েছিল? তিনি এরশাদ করলেন,ঐ সময় আদমের অবস্থান ছিল রুহ এবং শরীরে (সুনানে তিরমিজী)। এ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সৃষ্টিপূর্ব কাল, দুনিয়া ও আখেরাতের জগতে জন্ম-মৃত্যুর আওতাভূক্ত মনে হলেও হায়াতুন্ নবী বা সর্বকালীন নবী রূপে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ্। আল্লাহ্ তার প্রিয় হাবিব (সঃ)-কে তুলনা করেছেন ছিরাজুম্ মুনির (আলোকবর্তিকা) বা নক্ষত্র বা সূর্যের সাথে কিন্তু ক্বামরুন্ বা চাঁদের সাথে নয় যা আমাদের অবস্থানের আপেক্ষিকতার সাপেক্ষে কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে এবং সূর্যের আলোয় দৃষ্টিগোচর হয়। তাই নবী (সঃ)-কে উপলক্ষ্য করে যদি কোন বিশেষ অনুষ্ঠান বা দিবস পালন করতে হয় সেক্ষেত্রে চন্দ্রের তুলনায় সৌর বার্ষিক হিসাবই বেশী যৌক্তিক। তবে তিনি সকলের সাথে ১২ই রবিউল আউয়ালও পালন করেন। এভাবে বাংলা নাম নবী দিবন ও অনুমোদিত নাম যথাক্রমে আরবীতে ইয়াউমুন্নবী, উর্দূতে নবী ক্যা দিন এবং ইংরেজীতে PROPHET’S DAY সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হলে পালিত হয় প্রথম বারের মত “নবী দিবস”।
পিউ রিসার্চ সেন্টার ফর রিলিজিয়ন এন্ড পাবলিক লাইফ প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৮, ২০১২ তারিখের রিপোর্ট মোতাবেক বিশ্বের এক চতুর্থাংশ মানুষ মুসলিম হলেও বস্তুত নবী (দ.) হলেন সকল জাতির প্রতি রহমত। বিশ্বে অঞ্চল ভেদে এক বছরে ৩৬৫, ২৬০ বা ২১০ দিন এবং ৫ থেকে ১৩ দিনে সপ্তাহ ধরে হিজরী, বাংলা, আরমেনিয়ান, বুলগার, হিব্রু, চীনা, জাপানী, ইথিওপিয়ান, ফার্সী ও এ্যাজটেকস সহ বহু ক্যালেন্ডার রয়েছে। এর বেশিরভাগই কোন না কোন সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে ছাড়া দেখা যায় না। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে, দক্ষিণ এশিয়া, দূর প্রাচ্য বা আফ্রিকা সহ সকল দেশেই অত্র গ্রেগরীয়ান বা ইংরেজী ক্যালেন্ডার একই ধারায় প্রচলিত রয়েছে। ফলে ২৯ আগষ্ট সকলে সহজেই একত্রে পালনে সক্ষম হবে। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তির ক্রম অগ্রসরমান ধারায় গ্লোবাল ভিলেজে রূপ দিতে যাওয়া ভবিষ্যত প্রজন্মের বিকাশোন্মুখ সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে বিবেচনায় বিশ্বব্যাপী আর্থিক, সামাজিক ও শিক্ষা খাতে সার্বজনীনভাবে গৃহীত সৌর বার্ষিক দিন পঞ্জিকা হল ‘গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার’। তাই এ ক্যালেন্ডার মোতাবেক জগত সমূহের প্রতি সার্বজনীন রহমত স্বরূপ মহান ষ্টার প্রেরিত নবী (দ.)’র “আবির্ভাব দিবস” পালনের আহ্বানটি অচিরেই ব্যাপকতা লাভ করবে।
এতে আপনাদের সকলে অংশগ্রহণ আন্তরিকভাবে কাম্য।

নবী দিবসের উদ্যোক্তা,
আল্লামা ছুফী ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মা.)
গ্র্যান্ড শায়খ, রাহে ভাণ্ডার সিলসিলা।
--------------------------------------------------------------
মহান নবী দিবস - Holy Prophet's Day
Youm-un Nabi (SAW) #29August 2026AD, 
#Prophet #ProphetMuhammad #PBUH #EideMiladunNabi #YoumunNabi #নবীদিবস #ProphetsDay #29August #RaheVander #Sufism #Islam #Religion
#Dhaka #Bangladesh

Friday, 14 August 2026

সংযোগ, বৈচিত্র্য ও পবিত্রতার বোধ - আনুশেহ আনাদিল - সুফিবাদ



ধর্ম কখনোই মানুষের হৃদয়কে বিভক্ত করার জন্য জন্মায়নি। এর জন্ম হয়েছিল মানুষের বিস্ময় থেকে– জীবনের অজানার মুখোমুখি দাঁড়ানোর মুহূর্তে; আকাশের অসীমতা দেখে থমকে থাকার মুহূর্তে; নদীর অবিরাম স্রোতে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মুহূর্তে। সেই সময় থেকেই বিশ্বাস জন্ম নেয়– একটি নিঃশব্দ আলো, যা অন্তরের গভীরতম স্থানে পথ দেখায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্ম হয়ে গেছে নিয়ম, রীতিনীতি, পরিচয় চিহ্ন; যেখানে আত্মার স্থান কমে গেছে, সেখানে আচার-প্রদর্শনের রাজ্য বিস্তৃত।

বিশ্বাস গভীরভাবে ব্যক্তিগত। এটি আরোপ করা যায় না। মানুষ যেমন এক নয়, বিশ্বাসও এক নয়। একই প্রার্থনা, একই আচার, একই শব্দ, তবু ভেতরের অনুভূতি সব মানুষের ভিন্ন। কেউ বিশ্বাস খুঁজে পায় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে, কেউ আনন্দে, কেউ নীরব প্রশ্নের মধ্য দিয়ে। বিশ্বাসে একরূপতা চাপানো মানে মানুষের অন্তরের আকাশকে সীমাবদ্ধ করা, তার নিজস্ব যাত্রাকে অস্বীকার করা।

প্রকৃতি আমাদের প্রতিদিন এই সত্য শেখায়। প্রকৃতি এক নয়। সে বৈচিত্র্যে ভরা, বিস্তৃত, অগণিত, গভীর। অরণ্যে একটিই গাছ নয়; নদী কখনও সরল নয়; আকাশ কখনও একই রঙে সীমাবদ্ধ নয়। ভিন্নতার মধ্যেই জীবনের ভারসাম্য। ক্ষুদ্রতম পোকা থেকে বিশাল পাহাড়, মহাসাগর থেকে নক্ষত্র– সবই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে। যে উপাদান দূর নক্ষত্রকে আলোয় ভরায়, সেই উপাদানই আমাদের রক্তে প্রবাহিত। প্রকৃতি বিভাজন জানে না; সম্পর্ক জানে। এই সম্পর্কের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বিস্তৃত, নীরব, জাদুকরি শক্তি, যা অনুভব করতে না পারলে জীবন অন্ধ। যখন আমরা এই সংযোগ ভুলে যাই, ধর্ম হয়ে যায় শুধু শব্দের খেলা। আচার নৈতিকতার স্থান দখল করে। আমরা দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ি। কিন্তু হিংসা, কুৎসা, দুর্নীতি, অসততা আমাদের আচরণে অনায়াসে বাসা বাঁধে। মুখে পবিত্র শব্দ, কাজে নিষ্ঠুরতা। নিয়ম ঠিক থাকে, সময় ঠিক থাকে, কিন্তু হৃদয় অচল। এই অবস্থায় ধর্ম থাকে, কিন্তু বিশ্বাস অনুপস্থিত– এটি অভ্যাসের ধর্ম; আত্মার নয়।

উৎসবের চমকেও এই দ্বন্দ্ব দেখা যায়। আমরা দেব-দেবীর আরাধনায় আলো জ্বালাই, সুর তুলি। কিন্তু সেই সুর এত উচ্চ হয়ে ওঠে যে, প্রকৃতির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। রাতভর শব্দে কেঁপে ওঠে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ, প্রাণী, গাছপালা। আমরা ভাবি, দেবীর আরাধনা করছি, অথচ প্রকৃতির ছন্দ ভেঙে দিচ্ছি। প্রকৃতিকে আঘাত করে কখনোই সত্যিকারের আরাধনা হতে পারে না। যে ভক্তি ভারসাম্য নষ্ট করে, সে ভক্তি নিজের অর্থ হারায়। বিশ্বাস মানে ভারসাম্য, সংযম ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। যদি ঈশ্বর করুণাময় হন, তবে সেই করুণা আমাদের কাজ ও কথায় ফুটে উঠতে হবে। যদি ধর্ম পবিত্র হয়, তবে তা কেবল মন্দির, মসজিদ বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তা থাকতে হবে আমাদের রাস্তায়, কথায় ও সিদ্ধান্তে। সৃষ্টিকে আঘাত করে স্রষ্টাকে খোঁজা হয় না।

দিব্যতা যদি সত্যিই সর্বব্যাপী হয়, তবে তা নির্বাচিত হতে পারে না। তা থাকতে হবে নদীর স্রোতে, মাটির গন্ধে, গাছে, প্রাণীতে, মানুষের চোখে এবং সংশয়ীর প্রশ্নেও। নইলে সে কেবল ধারণা; জীবন নয়। যখন আমরা এই উপলব্ধিতে পৌঁছাই, তখন ধর্ম আর বিভাজনের ভাষা নয়– হয়ে ওঠে এক গভীর মানবিক বোধের একমাত্র পথ। বিভিন্ন ধর্ম তখন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা একই বিস্তৃত সত্যের ভিন্ন ভিন্ন ভাষা।

বাংলাদেশ আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন এই প্রশ্ন এড়ানো যায় না। আমাদের বলা হয়– ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করো না। কিন্তু প্রশ্ন ছাড়া বিশ্বাস গভীর হয় না। প্রশ্ন মানে অসংযম নয়; প্রশ্ন মানে সচেতনতা, মানসিক সাহস এবং নৈতিক দায়িত্ব। যে বিশ্বাস নিজেকে পরীক্ষা করতে ভয় পায়, সে বিশ্বাস কখনও জীবন্ত থাকে না। এই ভূমি নদীর মতো চলমান, পরিবর্তনশীল। স্থবিরতা কখনও টিকে থাকতে পারে না।

সব মানুষ একভাবে বিশ্বাস করে না। এই বৈচিত্র্য কোনো হুমকি নয়; এটি মানবজীবনেরই প্রতিচ্ছবি। যেমন প্রকৃতি ভিন্নতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকে, তেমনি সমাজও। কেউ বিশ্বাস খুঁজে পায় প্রার্থনায়, কেউ সেবায়, কেউ নীরবতায়, কেউ প্রকৃতির স্পর্শে, কেউ শিল্পে।

ধর্ম যখন শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়, তখন সে মানুষকে আলাদা করে। কিন্তু বিশ্বাস যখন বিনয়ী ও অন্তর্মুখী হয়, তখন সে মানুষকে একত্র করে। সবকিছুর ভেতরে পবিত্রতাকে দেখার শক্তি ধর্মকে দুর্বল করে না; বরং তাকে নির্মল ও শক্তিশালী করে।

যেদিন আমরা সত্যিই উপলব্ধি করব– পবিত্রতা কোনো রীতি, শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বাতাসে, নদীতে, মাটিতে, মানুষের চোখে এবং আমাদের নিজের বিবেকের গভীরে বাস করে, সেদিন ধর্ম আর বিভাজন সৃষ্টি করবে না। সেদিন আমরা জানব– আলাদা কোনো পথে নয়; বরং ঈশ্বরকে সৃষ্টির প্রতিটি কণায়, প্রত্যেক মানুষের চোখে, প্রতিটি জীবন্ত প্রাণের ভেতরে খুঁজে পাওয়া যায়। সেই উপলব্ধি হবে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বিশ্বাস– নীরব, অটল এবং সমস্ত মানুষের, সমস্ত প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধপূর্ণ। সেদিন পৃথিবী, মানুষ এবং জীবন্ত মহাবিশ্ব একত্র হবে একটি মহান, একমাত্র পবিত্রতার মধ্যে– সংযোগ, করুণা এবং সত্যের অনন্ত জ্যোতির আলোয়।

লেখকঃ আনুশেহ আনাদিল
সংগীতশিল্পী ও সমাজকর্মী

Thursday, 13 August 2026

Eid-e-Miladun Nabi PBUH - Sufism




Bismillahir Rahmanir Rahim
📌 “Holy Eid-e-Milad-un-Nabi (PBUH) and Shuhada-E-Karbala Mahfil-2026”
🗓️ 04 September, 2026 Friday, 7pm.
🏫 ‘Grand Regal Banquet Hall’, 600 Jacksonville RD, Burlington, New Jersey, USA.
Honorable President: Hazrat Shah Sufi Syed Mohammad Hasan Maizbhandari (M.),
Honorable Sajjadanshin, Gausia Haq Manzil and Managing Trustee, Shahanshah Hazrat Syed Ziaul Huq Maizbhandari (KA) Trust, Darbar-e-Gausul Azam Maizbhandari, Maizbhandar Sharif, Fatikchhari, Chattogram, Bangladesh.
Organized by: ‘Maizbhandari Gausia Haq Committee Bangladesh’, New England Branch, USA.

#Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiCenter #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Holy URS Mubarak - Sufism



On occasions 414 Urs Mubarak of Imam Rabbani Mujaddid Alf Sani Shaikh Ahmed Farooqi Naqshbandi Sirhindi QSA

Hazrat Imam Rabbani رحمة الله عليه Conference And Mehfil Urs Shareef

14th August 2026, Tomorrow evening at Shahi Masjid Fatehpuri, Chandni Chowk, Delhi, India.

Holy Urs Mubarak 🌹
#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiCenter #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Wednesday, 5 August 2026

Maizbhandar Urs Mubarak - Sufism



Holy Maizbhandar Urs Mubarak 🌹
#Maizbhandar #Maizbhandari #MaizbhandarSharif #MaizbhandarDarbarSharif #Chattogram #Bangladesh #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Eid-e-Miladun Nabi PBUH - Sufism

মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ২২তম জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
২৭শে রবিউল আউয়াল, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ


#EideMiladunNabi saw
#Maizbhandar #MaizbhandarSharif #MaizbhandarDarbarSharif #Maizbhandari #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Wednesday, 29 July 2026

Jashne Juluse Eid-e-MiladunNabi (SAW) - Sufism




Jashne Juluse Eid-e-MiladunNabi (SAW)
#SufiMedia #SufiCentre #Sufism #Islam
#Dhaka #Chittagong | #Bangladesh

Wednesday, 3 June 2026

URS-E AKBAR - CHATTOGRAM DARBAR SHARIF - SUFISM - BANGLADESH

সৃষ্টি জগতের মহান ত্রাণকর্তা
মওলা নবী - হযরত আহমদ মোজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.)’ এর 4 দিন ব্যাপী সৌরবার্ষিক। ওরছে মওলা নবী (সা.)




"ওরছে আকবর - URS-E AKBAR - عـرس أكــبــر"
"19,20,21,22 জিলহজ্জ 1437 হিজরি ||
22,23,24,25 জ্যৈষ্ঠ 1433 || 5,6,7,8 JUNE 2026 খ্রি."




স্থান: চট্টগ্রাম দরবার শরীফ
বোয়ালখালী পৌরসভা, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

#URSeAKBAR #ওরছে_আকবর
#UrsMubarak #UrsSharif
#June5,6,7&8
#SyedJafarSadekShah
#ChattogramDarbarSharif
#RaheVander #Sufism #Islam
#Chittagong #Bangladesh
#চট্টগ্রাম #বাংলাদেশ
#RaheBhander
#রাহেভান্ডার


Holy Urs Mubarak 🌹
#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Thursday, 21 May 2026

8th International Sufi Conference 2026

SZHMT 8th International Sufi Conference 2026



Title: "Tasawwuf, Social Harmony and World Peace"

📅 Date: 9–11 December 2026
📍 Venue: Chattogram, Bangladesh

Organized by
Shahanshah Hazrat Syed Ziaul Huq Maizbhandari (KA) Trust (SZHMT)

📑 Call for Papers
Abstracts are invited from scholars, researchers, graduate & PhD students, Sufi scholars, and peace practitioners.

🔹 Abstract Language: Bengali, English, Arabic, Persian, Urdu etc.
🔹 Abstract Length: 250–300 Words
🔹 Presentation Languages: Bengali, English, Arabic, Persian, Urdu etc.

📖 Selected papers will have opportunities for publication in conference proceedings and ISBN or ISSN Journals.

🎓 Partial & Full Funding opportunities will be available for selected distinguished scholars.

🗓 Important Date
Abstract Submission Begin: 01 April 2026
Abstract Submission Ends: 30 June 2026
Abstract Selection Notification: 15 July 2026
Full Paper Submission Deadline: 30 September 2026
Final Selection Notification: 01 November 2026-15 November 2026
Conference Dates: 9-11 December 2026

🔗 Submission
Submit Your Abstract Here
https://forms.gle/yJNF2h3MpQzYuwrk9

For detail information:
https://szhmtrust.org/international-sufi-conference

📞 Contact
📧 szhmt.suficonf@gmail.com
📞 +8801872288655
🌐 www.szhmtrust.org

Saturday, 16 May 2026

URS-E AKBAR - RaheVander - Sufism - Bangladesh


সৃষ্টি জগতের মহান ত্রাণকর্তা
মওলা নবী - হযরত আহমদ মোজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.)’ এর 4 দিন ব্যাপী সৌরবার্ষিক
ওরছে মওলা নবী (সা.)


"ওরছে আকবর - URS-E AKBAR - عـرس أكــبــر"
"19,20,21,22 জিলহজ্জ 1437 হিজরি।
22,23,24,25 জ্যৈষ্ঠ 1433 বাংলা।
5,6,7,8 JUNE 2026 খ্রি.।

স্থান: চট্টগ্রাম দরবার শরীফ
বোয়ালখালী পৌরসভা, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

#URSeAKBAR #ওরছে_আকবর
#UrsMubarak #UrsSharif
#June5,6,7&8
#SyedJafarSadekShah
#ChattogramDarbarSharif
#RaheVander #Sufism #Islam
#Chittagong #Bangladesh
#চট্টগ্রাম #বাংলাদেশ
#RaheBhander
#রাহেভান্ডার

Holy Urs Mubarak 🌹
#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

URS MUBARAK - Sufism - Bangladesh



Holy Urs Mubarak 🌹
#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Friday, 8 May 2026

46th URS MUBARAK - Sufism - Bangladesh

HOLY 46th ANNUAL URS MUBARAK 🌹
11 জৈষ্ঠ্য - #25MAY 2026, MONDAY.


হযরত কুতুবে জামান সৈয়দ আহমদ হোছাইন শাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। তাঁর পীর মুর্শিদ মাওলায়ে রহমান হযরত গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারীর (ক.) নির্দেশ না পেলে তিনি কখনোই প্রকাশ হতেন না। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি উপমহাদেশ, দেশ-বিদেশের নানা স্থানে বিভিন্ন প্রয়োজনে ভ্রমণ করেছিলেন।ভাগ্যক্রমে জায়গাগুলোয় তাঁর অলৌকিকত্ব প্রকাশিত হয়ে যাবার পর তিনি সত্বর সে স্থান ত্যাগ করতেন ও অন্যত্র চলে যেতেন।

বার্মায় একজন মৃতকে জীবিত করার ঘটনাটি হওয়ার পর বোয়ালখালিস্থ গ্রামের সঙ্গীসাথীরা, যারা একই সাথে চাকুরী করতেন কিন্তু পরিচয় জ্ঞাত ছিলেন না, তাঁরা তাঁকে আর সেখানে দেখেন নি। ঐ জায়গায় আরো কিছু ঘটনা রয়েছে তাঁর। তবে সে ঘটনাটি অত্যাধিক জানাজানি হওয়ার পর হতভম্ব হওয়া সহকর্মীবৃন্দরা ফকির সাহেবের খোঁজ করেছেন অনেক, কিন্তু পান নি। পরে ঐ সহকর্মীদের অনেকে কার্যোপলক্ষ্যে কলকাতা গমন করলে সেখানে তাঁকে দেখতে পান। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখেন ব্যক্তিটি তিনিই। অর্থাৎ গোমদন্ডী গ্রামের সৈয়দ আহমদ হোছাইন মিয়াজী সাহেব। চুল-দাড়িতে জট পাকিয়ে এক অবস্থা। নিজের মত এক পাশে বসেছিলেন। তাঁরা তাঁকে চিনতে পেয়ে সামনে গিয়ে অনেকক্ষণ দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেন, পরিচয় দিলেন, সঙ্গ নিতে অনুরোধ করলেন। এত কাকুতিমিনতিতে তিনি বিরক্ত হচ্ছিলেন। তাঁদের ঘোরাঘুরি পর্ব শেষ করতে ও ফিরলে দেখা হবে বললেন। তাঁরা সরল বিশ্বাসে তাঁদের কাজ সম্পন্ন করে ফিরতে দেখেন তিনি সেখানে আর নেই। আশেপাশে খোঁজ করেও পেলেন না। কলকাতার ঐ জায়গায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা জমিদার দম্পতি কুতুবে জামানের অনুগ্রহে তাঁদের জীবনে বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত জীবনের একটিমাত্র সন্তানের মুখ দেখেছিলেন। সেখানেও অলৌকিকত্ব প্রকাশ আর জানাজানি হওয়ার হেতু আর অবস্থান করেন নি। এভাবে অনেক অনেক ঘটনা! জাহাজের ইংরেজ ক্যাপ্টেন,নাবিক ও অন্যান্য কর্মীরাও পেয়েছিলো তাঁর অলৌকিকত্বের পরিচয়।

দেশে ফিরে যখন রাঙ্গামাটিতে তাঁর অলৌকিকত্ব প্রকাশ হয়ে গিয়েছিলো, প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল আউয়াল সাহেবের কাছে; সেইবারে মাওলায়ে রহমানের পক্ষ থেকে আদেশ এসেছিলো স্থায়ীভাবে দরবারি কার্য পরিচালনার। বহুভাবে তিনি তা এড়িয়ে যেতে চাইলেও অগত্যা মুর্শিদের আদেশে প্রকাশ্যে তরীকার আলো বিচ্ছুরণের কাজ শুরু করতে হলো। স্থায়ীভাবে গোমদন্ডীতে দরবার প্রতিষ্ঠার সূচনা তখন থেকেই।

মহান ১১ই জৈষ্ঠ্য আগামী ২৫শে মে এ মহান আল্লাহর অলির পবিত্র বেছাল বার্ষিকী ওরশ মোবারক। ওরশ মোবারক মহাসমারোহে গোমদন্ডী দরবারে উদযাপিত হবে। জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলে আমন্ত্রিত।

©️ শাহাজাদা সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভান্ডারী (মা.) - Official Facebook Page. 


#Maizbhandar #Maizbhandari #মাইজভান্ডারী
#UrsMubarak #UrsSharif #ওরশ_শরীফ
#SufiCentre #SufiMedia #SufiWorld #GlobalSufiMedia #Sufism #Tasawwuf #Muslim #Islam #Bangladesh

#Facebook #Twitter #X #Instagram
@SufiMediaLive
GLOBAL SUFI MEDIA 
SUFI-MEDIA.blogspot.com

Tuesday, 31 March 2026

HOLY URS MUBARAK OF HAZRAT KHWAJA AMIR KHUSRAU (RA) - SUFISM - INDIA

722ND URS CELEBRATION: KHWAJA AMIR KHUSRAU (RA)



SCHEDULE

* 05-04-2026: At 7:00pm, Opening of Urs Celebration with Tilawat e Quran, Dua, Mehfil e Qawwali and Food distribution.

* 06-04-2026: Badi Raat After Eisha Namaz at 9:00pm inside Aastana sharif Tilawat e Quran, Dua, Mehfil e Qawwali and Food distribution.

* 07-04-2026: At 11 am, Bada Qul sharif with Tilawat e Quran, Shajra khwani, Dua, Mehfil e Qawwali and Food distribution.

* 08-04-2026: At 11am with Tilawat e Quran, Dua, Shajra Khwani, Mehfil e Qawwali and Food distribution.

* 09-04-2026: At 11 am, Qul Sharif with Tilawat e Quran, Dua, Shajra Khwani, Mehfil e Qawwali and Food distribution.
* Urs Closing ceremony of 722nd, Urs sharif at 7:00 pm with Tilawat e Quran, Shajra Khwani, Dua, Mehfil e Qawwali and Food distribution.

* Donate Us On: WWW.NIZAMUDDINAULIA.ORG

* PHONE PE/PAYTM/GOOGLE PAY-
* 9811778607
©️

Thursday, 26 March 2026

Urs Mubarak - Sufism

HOLY URS MUBARAK

হযরত আব্দুল লতিফ বোগদাদি (রহ.)' পবিত্র ৪২তম বার্ষিক #ওরশ_শরীফ ১৩ ই চৈত্র ২৭ শে মার্চ ২০২৬ ইংরেজি।

স্থান:- কেশবপুর, কদমরসুল, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia  
#GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

URS MUBARAK - MAIZBHANDAR SHARIF - SUFISM - BANGLADESH

Maizbhandar Holy URS MUBARAK

মহান ২২ চৈত্র, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি।
ইমামুল আউলিয়া, গাউছুল আজম, হযরত শাহ সুফি ছৈয়দ গোলামুর রহমান আল মাইজভান্ডারী (ক.) - প্রকাশ বাবাভান্ডারী (ক.) কেবলা কাবার ৯০তম মহা পবিত্র বার্ষিক ওরছ শরীফ।

সৌজন্যে: হযরত ছৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্ট

Maizbhandar Sharif.
Chittagong, Bangladesh.
 
Holy Urs Mubarak!!! 
#Maizbhandar #Maizbhandar_Darbar_Sharif #Bangladesh 
#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Tuesday, 6 January 2026

URS MUBARAK - SUFISM

প্রিয় আশেকানে ত্বরিকত
আসসালামু আলাইকুম


আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
রোজ শনিবার

হযরত কেবলায়ে আলম শুকছড়ী দরবার,
মাহবুবে খোদা ,কুতুবে রাব্বানী , আরেফ বিল্লাহ
হযরত সৈয়দ আবদুল খালেক শাহ ওরফে
 হযরত শাহ জুলফক্বার ছূফী (ক.) এর
১০৪তম বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত ওরশ মোবারকে আপনারা উপস্থিত হয়ে রুহানী ফুয়ুজাত হাসিল করুন।

বিঃদ্রঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ওরশ শরীফের নির্ধারিত তারিখ ১ফাল্গুন, ১৪ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৩১ জানুয়ারি করা হয়েছে।
--------------------------------------------------------------------------

104th
UrsMubarak of Mahbube khoda, Kutube Rabbani, Aref Billah
 Hazrat Syed Abdul Khalek Shah
Orf Hazrat_Shah_Julfikar_Sufi (k.)
January_31st_2026
Saturday.

All are cordially invited for this holy programme.

Special Note: Due to the upcoming National Parliamentary Election, the scheduled date of the Urs Sharif has been changed from 1st Falgun (14 February) to 31 January.

Monday, 5 January 2026

শরিয়ত, মারফত, হকিকত, তরিকত,চার তরিকা অর্থ কি?

প্রশ্ন: শরিয়ত, মারফত, হকিকত, তরিকত,চার তরিকা অর্থ কি?

উত্তর: এগুলো তরিকা নয়, বরং তরিকার বিভিন্ন স্তর। প্রতিটা তরিকার বিধি-বিধান থাকে, জ্ঞান, কর্ম বা সাধনার স্তর থাকে।
১.শরীয়ত অর্থ বিধান। 
২.তরিকত অর্থ (বিধান মতে চলার) রাস্তা।
৩.হাকিকত অর্থ (তরিকায় থেকে) বাস্তব বা সত্য উপলব্ধি।
৪.মারেফত অর্থ (হাকিকতের গুপ্ত রহস্য সম্পর্কে) জানা।
৫.ওয়াহেদানিয়াত অর্থ (মারেফত হাসিলের মাধ্যমে) এক আল্লাহর সাথে বা'কা হওয়া বা চিরস্থায়ীভাবে মিলে যাওয়া।

-DM Rahat


#Sufism

Friday, 26 December 2025

814th annual Urs Mubarak of Hazrat Khawaja Gharib Nawaz (RA) - Sufism - SufiCenter - Bangladesh - India

6 Rajab, 814th Annual Urs Mubarak of Hazrat Khawaja Gharib Nawaz(r) at Ajmer Dargah Sharif, INDIA

আজ ৬ ই রজব সুলতান-উল-হিন্দ, আতায়ে রাসুল (ﷺ) খাজা গরীবে নেওয়াজ হজরত সৈয়দ মুইনুদ্দিন চিশতী আজমেরী সানজারী আল- হোসাইনী (রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি)র আজ পবিত্র বাৎসরিক ওরশ মোবারক।



৬৩৩ হিজরীর ৫ রজব দিবাগত রাত অর্থাৎ ৬ রজব জগদ্বিখ্যাত সাধক আউলিয়া কূল শিরমনি সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা সৈয়দ মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ:) ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া হতে চির বিদায় গ্রহণ করে আখিরাতে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। ওফাতের সাথে সাথে তাঁর পবিত্র কপাল শরীফ-এ স্পষ্টভাবে আরবীতে স্বর্ণোজ্বল নূরানী অরে লিখা হয়ে যায় “হাযা হাবীবুল্লাহ মা-তা ফি হুব্বিল্লাহ” অর্থাৎ ইনি আল্লাহর বন্ধু আল্লাহর মুহব্বতেই তিনি বিছাল লাভ করেছেন। গরীবে নেওয়াজের বড় সাহেবজাদা হযরত খাজা সৈয়দ ফখরুদ্দীন চিশতী রহ: উনার জানাজার নামাজ পড়ান।

খাজা গরীবে নেওয়াজ হজরত সৈয়দ মুইনুদ্দিন চিশতী আজমেরী সানজারী আল-হোসাইনী (রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি)র হুজুর পাক (দঃ) এর দোয়া এবং নির্দেশ লাভ করে পবিত্র আজমীরে আগমন করেছিলেন। কালের পবির্তনের সাথে সাথে আজমীরের ঐতিহাসিক গুরুত্বে পরিবর্তন ঘটতে থাকে কিন্তু খাজা বাবার তথায় আগমন এবং অবস্থানের ফলে আজমীরে যেভাবে কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাচ্ছে ও গৌরবের অধিকারিনী হয়েছে তা অবর্ণনীয়।খাজা বাবা (রহঃ) স্বীয় মাতৃভূমি হতে রাসুলে পাক (দঃ) এ নির্দেশে হিজরত করে হিন্দুস্থানের মাটিতে ইসলাম ধর্মপ্রচারের জন্য জীবনের অর্ধেকেরও অধিক সময় ব্যয় করেছেন। তাঁর দৃঢ়তায় উপমহাদেশে ইসলামের পতাকা বুলন্দ ও সুদৃঢ় হয়।

সুলতান-উল-হিন্দ, আতায়ে রাসুল (ﷺ) খাজা গরীবে নেওয়াজ হজরত সৈয়দ মুইনুদ্দিন চিশতী আজমেরী সানজারী আল-হোসাইনী (রহ:) হিন্দুস্তানে সর্বপ্রথম কালিমায় ঝান্ডা উড়িয়ে দিয়ে ফুৎকার করে বলেছিলেনঃ

"শাহ আস্ত হোসাইন, বাদশাহ্ আস্ত হোসাইন, দ্বীন আস্ত হোসাইন, দ্বীন পানাহ আস্ত হোসাইন, সার দাদ না দাদ দাস্ত দার দাস্ত এ ইয়াযীদ, হাক্কা কে বিনায়ে লা ইলা আস্ত হোসাইন"।

বাংলা অনুবাদঃ আধ্যাত্বিক জগতের সম্রাট হলেন হোসাইন, বাদশাহ হলেন হোসাইন, ধর্ম হলেন হোসাইন, ধর্মের আশ্রয় দাতা হলেন হোসাইন, শির দিয়েছেন, দেননি হাত ইয়াযীদের হাতে, সত্য তো ইহাই যে লা-ইলাহার সমস্ত স্তম্ভ হলেন হোসাইন (আ)।

আজও সুলতান-উল-হিন্দ, আতায়ে রাসুল (ﷺ) খাজা গরীবে নেওয়াজ হজরত সৈয়দ মুইনুদ্দিন চিশতী আজমেরী সানজারী আল-হোসাইনী (রহ:) উরুস মোবারক পালন করছেন কিন্তু কখনও কি উনাকে অনুসরণ করতে পেরেছেন? যদি অনুসরণ করতে পারতেন তাহলে আপনিও আল্লাহর অলী হয়ে যেতেন। তিনিও ১২ ইমাম পাকের ইমামতের ছায়াতলেরই যাওয়ার পয়গাম দিয়েছেন ও আনুগত্য করতে বলে গেছেন আজীবন।

আস্সালামু আলাইকা ইয়া আউলিয়ায়ীল কামেলীন, ইয়া সুলতান-উল-হিন্দ, আতায়ে রাসুল (ﷺ) ইয়া খাজা, ইয়া গারীবে নেওয়াজ, ইয়া আশেকে হুসাইন, ইয়া মঈনুদ্দিন! হে রাব্বুল ইজ্জত আমাদেরকে ঈমান রক্ষার দুর্যোগপূর্ণ সময়ে খাজা গরীবে নেওয়াজ (রহঃ) এর আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করে বাস্তব জীবনে অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। এবং উনার রুহানী ফায়েজ ও জিয়ারত আমাদের নসীব করেন।আমিন, ছুম্মা আমিন।

©️ সৈয়দ হোসাইন উল হক আল-হোসাইনী

Holy Urs Mubarak!!! 
#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam

Thursday, 11 December 2025

URS MUBARAK -SUFISM - BANGLADESH

Holy Urs Mubarak


#Urs #UrsMubarak #UrsSharif #Sufi #SufiLive #SufiWorld #SufiFestival #SufiCentre #SufiOrder #SufiMedia #World #Global #GlobalSufiServices #GlobalSufiMedia #Tasawwuf #Sufism #التصوف #Islam


শাসকের ক্ষমতা বনাম সাধকের শক্তি | আনুশেহ আনাদিল | সুফিবাদ

কারবালার পর ক্ষমতা যখন ধর্মের ওপর দখল নিল, ইসলাম কিন্তু হারিয়ে যায়নি। রাজদরবার ছেড়ে চলে গিয়েছিল খলিফাদের প্রাসাদ, শাসকের গৌরব বাড়ানোর জ...